সুনামগঞ্জের ভয়ঙ্কর প্রতারক’ ছুরত আলীর খুঁটির জোর কোথায় : একসঙ্গে ৫ পত্রিকার সম্পাদক
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, 4:11 PM
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, 4:11 PM
সুনামগঞ্জের ভয়ঙ্কর প্রতারক’ ছুরত আলীর খুঁটির জোর কোথায় : একসঙ্গে ৫ পত্রিকার সম্পাদক
সুনামগঞ্জের ভয়ঙ্কর এক প্রতারক ও জালিয়াত চক্রের সদস্য ছুরত আলীর।এমনটা দাবি করে দৈনিক সিলেটের হালচাল ও দৈনিক সিলেট এক্সপ্রেস-সহ তার মালিকাধীন সবকটি পত্রিকার নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। বুধবার (৫ই জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সরকার ও প্রশাসেনর বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া পৃথক আবেদনে এ দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনে তার মালিকাধীন পত্রিকাগুলোর নিবন্ধন বাতিলের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়। এমন ভয়ঙ্কর প্রতারক’ ছুরত আলীর খুঁটির জোর নিয়ে ও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে প্রকাশিত দৈনিক সিলেটের হালচাল ও দৈনিক সিলেট এক্সপ্রেস-এই দুই দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হচ্ছেন মোঃ ছুরত আলী। “সিলেট বাজার, আমদের বিশ্বনাথ ও আমাদের সুনামগঞ্জ” নামে অপ্রকাশিত আরো ৩ টি পত্রিকার ডিক্লারেশন রয়েছে তার নামে। এ নিয়ে সর্বমোট ৫ টি পত্রিকার সম্পাদক ছুরত আলী।
মোঃ ছুরত আলীর স্থায়ী ঠিকানা সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জয়নগর বাজার এলাকাধীন রহমতপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের ইসমাইল আলী ও হামিদা বিবির পুত্র। তার জাতীয় পরিচয়পত্র নং-৯০১৮৯৫০২৮৮৯৬৫।
বাংলাদেশে তার দ্বিতীয় কোন স্থায়ী ঠিকানা নেই। নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), নিজ স্ত্রী রোকেয়া বেগমের এনআইডি এবং তার ৩ শিশু সন্তানসহ পরিবারের সকলের একমাত্র স্থায়ী ঠিকানা ও জন্মনিবন্ধন সুনামগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার জয়নগর বাজার এলাকাধীন রহমতপুর গ্রামে। এই ঠিকানায় তার এবং তার স্ত্রী-সন্তান সকলের বাংলদেশী পাসপোর্টও রয়েছে। এ পাসপোর্ট দিয়ে তিনি বহুবার দেশের বাহিরে ভ্রমণ করেছেন।
অভিযোগে প্রকাশ- মোঃ ছুরত আলী তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি নং-৯০১৮৯৫০২৮৮৯৬৫)-এর স্ক্যানিং জালিয়াতি করে তার এই এনআইডি নাম্বারে থাকা সুনামগঞ্জ সদরের রহমতপুরের ঠিকানা বদলিয়ে সিলেটের বিশ্বনাথের মুফতির গাঁও, চাঁনশীর কাঁপন, ডাকঘর-বিশ্বনাথ-৩১৩০, বিশ্বনাথ, সিলেট-কে নিজের স্থায়ী ঠিকানা বলে জালিয়াতি করেছেন।
পরে সিলেটের বিশ্বনাথের মুফতির গাঁও নিজের স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়ে নিজ নামে ‘দৈনিক সিলেটের হালচাল’ পত্রিকার নিবন্ধন গ্রহণ করেন, যার নিবন্ধন নং- সিল-১২০/২০১২। অন্যদিকে একই এনআইডি নাম্বারে (নং-৯০১৮৯৫০২৮৮৯৬৫) তার আসল (স্থায়ী) ঠিকানা সুনামগঞ্জ সদরের রহমতপুর, জয়নগর বাজার দেখিয়ে নিজ নামে ‘দৈনিক সিলেট একসপ্রেস’ পত্রিকার নিবন্ধন গ্রহণ করেছেন, যার নিবন্ধন নং-সিল-১৬০/২০১৭। এভাবে এনআইডি স্ক্যনিং জালিয়াতির মাধ্যমে মোঃ ছুরত আলী নিজ নামে ‘সিলেট বাজার, আমাদের বিশ্বনাথ, আমাদের সুনামগঞ্জ’ নামীয় আরো ৩ টি পত্রিকার নিবন্ধন গ্রহণ করেন।
দুদক চেয়ারম্যান-সহ সরকার ও প্রশাসনের তিনটি দপ্তরে একযোগে অভিযোগ পাঠনো হয়েছে। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়- মোঃ ছুরত আলী জালিয়াতির আশ্রয়ে একাধিক পত্রিকার সম্পাদক প্রকাশক হলেও তিনি আদৌ পেশাদার কোন সাংবাদিক নন। নিজেকে ফটোসাংবাদিক বলে ভূয়া পরিচয় দিয়ে নিজ স্ত্রী রোকেয়া বেগমের নামে (১৭ অক্টোবর ২০১৯) তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্পোরেট শাখা, ঢাকা, হতে ৭ লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র গ্রহণ করেন। একই (১৭ অক্টোবর ২০১৯) ইং তারিখে কর্মক্ষেত্রের ভিন্ন পরিচয় (দৈনিক সিলেট বাণীর স্টাফ ফটো গ্রাফার) দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল হতে ১ লাখ টাকা অনুদান গ্রহণ করেন। জালিয়াত ও প্রতারক মোঃ ছুরত আলী নিজ স্ত্রী রোকেয়া বেগম নামে (২৫/৯/২০১৮) ইং তারিখে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে অনুদান প্রাপ্তির একখানা আবেদন করেন। ওই আবেদনে নিজেকে সিলেট বাণীর ভুয়া স্টাফ ফটোগ্রাফার এবং সুনামগঞ্জের পরিবর্তে নিজের স্থায়ী ঠিকানা (‘৪৯/বি, জল্লারপার, সিলেট’’) দেখান। পাশাপাশি একটি জাতীয় পরিচয় পত্রের (এনআইডি) জাল ফটোকপি ও জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুয়া নাম্বার-১৯৮৯৯১৯৫০১৪৪৮২৭২৩ বসান। এই দরখাস্তে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি’র আদেশ নিয়ে মোটা অংকের অনুদান গ্রহণ করেন।
এছাড়াও ছুরত আলী নিজের অপরাধ আড়াল করতে টাকার বিনিময়ে (১৩ ফেব্রুয়ারী)দৈনিক সিলেট এক্সপ্রেস পত্রিকায় অন্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে তাদের নাজেহাল করাই তার কাজ।
মোঃ ছুরত আলী জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের ঠিকানা বদলিয়ে সিলেটের মুফতির গাঁও ঠিকানা দিয়ে সেই ঠিকানায় ঝড়ে তার বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে মর্মে আবেদন করে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে ত্রাণ অনুদান গ্রহণ করেন। যার ফটোকপি আবেদনের সাথে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়। অথচ মোঃ ছুরত আলী ও তার স্ত্রীর স্থায়ী ঠিকানা সুনামগঞ্জ সদরের জয়নগর বাজারের রহমতপুর গ্রামে।
জালিয়াতি ও প্রতারনার মাধ্যমে নাম ঠিকানা পরিবর্তন করে একই ব্যক্তি মোঃ ছুরত আলী একসাথে ৫ টি পত্রিকার মালিক, সম্পাদক ও প্রকাশক হয়েছেন এবং নিজে লাখ লাখ টাকা সরকারি অনুদান গ্রহণ করেন। পাশাপাশি নিজ স্ত্রী রোকেয়া বেগমের নাম ব্যবহার সরকারি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। সরকার ও প্রশাসন বরাবরে দেওয়া পৃথক আবেদনে জনস্বার্থে ও সরকারের স্বার্থে মোঃ ছুরত আলীর নামে ভুয়া নাম-ঠিকানায় সংগৃহীত “দৈনিক সিলেটের হালচাল” পত্রিকাসহ তার নামের দেওয়া সব ক’টি পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল এবং জালিয়াতি ও প্রতারণার দায়ে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানানো হয়। আবেদনের সাথে ১৯ পাতা ডকুমেন্টের ফটোকপিও সংযুক্ত করে দেওয়া হয়।