ঢাকা ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
জুড়ীতে নির্বাচনী সহিংসতার উদ্দেশ্যে জামায়াতের মজুদ‌ করা লাঠিসোঁটা উদ্ধার স্মাগলারদের রামরাজত্বে ভয়ংকর দর্শনা এসআই আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ শেরেবাংলা নগরে বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ১০ম বর্ষে পদার্পন করল সকালের সময় বাংলাদেশ বেতারে মাদকসেবী অনুষ্ঠান উপস্থাপিকা, উদাসীন বেতার কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত মূল্যে এলপিজি বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালনে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের উদাসীনতা test প্রতারণার অভিযোগে অভিজাত রেস্টুরেন্ট মালিক গ্রেপ্তার

ধোপাজান চলতি নদীর তীরে সাধারণ মানুষকে হয়রানি সার্ভেয়ার আনোয়ার হোসেনের শাস্তি দাবি

#

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২,  1:25 AM

news image

সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ধোপাজান চলতি নদী এলাকার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ জানিয়েছেন। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কাইয়ারগাঁও এলাকায় চলতি নদীতে অভিযান চলাকালে আনোয়ার হোসেন অযথা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ তাদের। 

অভিযোগ করে স্থানীয়রা জানান, কাইয়ারগাঁও এলাকার প্রায় ৯৫ ভাগ মানুষ শ্রমিক ও দিনমজুর। তারা দিনমজুরী কাজে ছিলেন। নদীর তীরে পরিবারের মহিলারা কাপড় ধুয়া, গোসল করা ও অন্যান্য সাংসারিক কাজ সন্তানদের নিয়ে করছিলেন। এমন সময় ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. আনোয়ার হোসেন তাদেরকে ধাওয়া করে। বাজারে সাধারণ মানুষকে ধাওয়া করে হুমকি ধামকি দেয়। তখন গ্রামের মানুষ দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। 

ওইদিন দুপুরে ধোপাজান চলতি নদীতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান হয়েছে। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কাইয়ারগাঁও এলাকায় চলতি নদীতে এই অভিযান করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া সুলতানা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বালু-পাথর ব্যবসায়ী জানান, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীক নিরাপত্তার স্বার্থে বড় অংকের অনেক টাকা নিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ের অভিযানে আমাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছেন। অভিযানের খবর পেয়ে আমরাও সরে যেতাম। গত কয়েক দিন আগে বড় কর্তাদের বেশি টাকা দেয়ার নাম করে আমাদের কাছে বড় অংকের টাকা চেয়ে বসেন। কিন্তু আমরা দিতে অস্বীকার করি। এতেই তিনি ক্ষুদ্ধ হয়ে আমাদের উপর সুকৌশলে একের পর এক নির্যাতন চালিয়ে যান। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আগের মতো তিনি আর আমাদের এলাকায় আসেন না টাকা নিতে। আমরা সার্ভেয়ার আনোয়ার হোসেনের কঠোর শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

এমন অভিযোগ অস্বীকার করে সার্ভেয়ার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি কোনো সময় এই এলাকায় যাইনি। শনিবার দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে আমি সহযোগি হিসাবে গিয়েছিলাম। কিন্তু কারও উপর ধাওয়া করিনি।

 সদর মডেল থানার এস.আই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা নিরাপদে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান করে এসেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সার্ভেয়ার মো. আনোয়ার হোসেন কোথায় গিয়েছিলেন, তিনি আমাদের বলে যাননি। হঠাৎ চলে এসে জানান কারা যেন ধাওয়া করেছে।   

স্থানীয় ইউপি সদস্য (প্যানেল চেয়ারম্যান) নজরুল ইসলাম মানিক বলেন, চলতি নদীতে অভিযান চলাকালে স্থানীয় সরকার শাখার কর্মচারী মো.জাহাঙ্গীর আলম আমাকে ফোন দিয়ে জানতে চান আমি কোথায় আছি। তখন আমি ইউনিয়ন পরিষদে ছিলাম। পরবর্তীতে আমি এলাকায় এসে শুনেছি, সার্ভেয়ার আনোয়ার হোসেন আমাদের বাড়ি-ঘরের ছবি তুলে নিয়েছেন। আমাদের নামও লিখে নিয়েছেন। তিনি নাকি মামলা দিবেন আমাদের বিরুদ্ধে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া সুলতানা বলেন, ধোপাজান চলতি নদীতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযান চলাকালে একটি চক্র আক্রমণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স থাকায় আমরা নিরাপদে অভিযান পরিচালনা করে চলে আসি।