ঢাকা ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
স্মাগলারদের রামরাজত্বে ভয়ংকর দর্শনা এসআই আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ শেরেবাংলা নগরে বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ১০ম বর্ষে পদার্পন করল সকালের সময় বাংলাদেশ বেতারে মাদকসেবী অনুষ্ঠান উপস্থাপিকা, উদাসীন বেতার কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত মূল্যে এলপিজি বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালনে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের উদাসীনতা test প্রতারণার অভিযোগে অভিজাত রেস্টুরেন্ট মালিক গ্রেপ্তার প্রতারণার অভিযোগে অভিজাত রেস্টুরেন্ট মালিক গ্রেপ্তার

মুখোশ পাল্টে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে সক্রিয় হতে চাচ্ছে দর্শনার গোল্ড সাইদ

#

আব্দুস সালাম মিতুল

২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫,  10:24 PM

news image

স্বর্ণ চোরাচালান ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপর থাকলেও বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গা জেলার স্বর্ণ চোরাচালান কারবারিরা। স্বর্ণ চোরাচালানের ভয়ংকর রুট চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানা। দর্শনা থানা বাংলাদেশে ভারতের সীমান্তবর্তী একটি থানা। আর এই থানা ঘিরে সক্রিয় হয়ে ওঠেছে স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের ভয়ংকর সিন্ডিকেট। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংসদ সদস্য আলী আজগর টগরের ছত্র ছায়ায় তোতা, মান্নান, সাঈদ ও নফরের নেতৃত্বে চোরাচালানের ভয়ংকর রুটে পরিণত হয় এই অঞ্চল। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা এলাকা থেকে পালিয়ে গাঢাকা দিলেও মুখোশ পাল্টে বিএনপিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেছে আবু সাইদ ওরফে গোল্ড সাইড। এই সিন্ডিকেটের সবাই পলাতক থাকলেও চোরাচালানে অর্জিত অবৈধ সম্পদ দেখভালের দায়িত্ব এই সাইদের উপরে। স্বর্ণ চোরাকারবারী নফরের অবৈধ অর্থ এবং অবৈধ টাকায় তৈরি গরুর ফার্মের দায়িত্বও এখন সাইদের । গোল্ড সাইদ নিজে বাঁচতে এবং এই গোল্ড চোরাকারবারি ভয়ংকর রুট সক্রিয় করতে অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলছেন এবং নিজেকে বিএনপি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে ইন্ডিয়ায় পার করতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন ওই সময় গোল্ড সাইদ জয়নগর, নিমতলী, কামারপাড়া বারাদি, ঠাকুরপুর, মুন্সিপুর বর্ডার দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ইন্ডিয়ায় পার করছিলেন তিনি। সামনে নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন নাশকতা কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে এবং এই সকল নেতাকর্মীদের নাশকতা করানোর জন্য অর্থায়ন করছে এই গোল্ড সাইদ। দর্শনা থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনার জন্য গত কয়েকদিন আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের ঠাকুরপুর গ্রামের মাঠের মধ্যে রাতে একটি মিটিং করেন এই মিটিং এর সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন এই গোল্ড সাইদ। নির্বাচন বানচাল এবং নাশকতা করার জন্য আমলীগের নেতাকর্মীরা অবৈধ অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে ওই অঞ্চলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবৈধ অস্ত্র যোগান দিচ্ছেন গোল্ড সাইদ। অনুসন্ধানে জানা যায় ভারতের যেসব গোল্ড চোরাকারবারি এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত তারাই অবৈধ অস্ত্র বাংলাদেশে পাঠাচ্ছেন এবং সাইদের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাতে সেগুলো পৌঁছে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পুনরায় বিএনপি নেতাদের ছাত্রছায়াই দখলবাজি শুরু করেছেন এই সাঈদ স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের সময় কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড চন্ডিপুর গ্রামের আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি আবু সিদ্দিক জোরপূর্বক দীর্ঘ ১৭ বছর একটি গভীর নলকূপ দখল করে রাখছিল এই গোল্ড সাঈদের সহযোগিতায়। এই নলকূপের যারা মালিক তাদেরকে বিভিন্ন ভয় ভীতি দেখিয়ে। হাসিনা সরকার পতনের পরে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি আবু সিদ্দিক গাঢাকা দিলে তার পক্ষে এই গভীর নলকপটি দখল নেই এই গোল্ড সাইদ। এই গভীর নলকূপের যারা প্রকৃত মালিক তারা বিভিন্ন বিএনপি'র নেতাকর্মীদের কাছে এবং পুলিশের কাছে গেলে ও তারা কোন সহযোগিতা পাইনি কারণ সবাইকে এই সাইদ তার কালো টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে রাখছেন। এই গভীর নলকূপের যারা প্রকৃত মালিক তারা দর্শনা থানায় সহযোগিতার জন্য গেলে পুলিশ তাদেরকে সহযোগিতা না করে প্রকৃত মালিককে আসামি বানিয়েছেন আর দখলবাজ গোল্ড সাইদকে মালিক বানিয়েছেন শুধুমাত্র এই গোল্ড সাইদের কারনে ।  স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় দর্শনা থানাতেও রয়েছে তার ব্যাপক প্রভাব। কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করতে দর্শনা থানার পুলিশ সাঈদের নির্দেশ ফল করেন এবং তার প্রমাণও পাওয়া যায়। যেসব আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাঈদের সাথে সম্পর্ক রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে না। জানা যায় ওই অঞ্চলের এক আতঙ্কের নাম সাইদ ওরফে গোল্ড সাইদ । স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে আরও জানা যায় এই গোল্ড সাঈদ স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীদের উপরে বিভিন্ন অত্যাচার করেছেন। স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের সময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলায় দর্শনা থানাধীন কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের বিএনপি নেতা আলী আহমদকে মারধর করেছিলেন এই গোল্ড সাইদ। কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন বলেও প্রচারণা দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে সাইদ এর সাথে কথা বললে গেলে তিনি প্রতিবেদককে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। প্রতিবেদককে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হলে তিনি বলেন আমি আগে বিএনপি করতাম। আপনি চুয়াডাঙ্গা ২ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী বাবু খানকে জিজ্ঞেস করেন আমি বাবু খানের দুইটা ওয়ার্ডের নির্বাচনের খরচের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছি। আওয়ামী লীগের সময় বিভিন্ন ব্যবসায় কারণে আমি আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। 

আবু সাঈদ ওরফে গোল্ড সাইদের বিএনপিতে অবস্থান তৈরি করা এবং এই সকল কাজের সহযোগিতা করছেন দর্শনা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল হাই (সাবেক মেম্বার চন্ডিপুর)। এই আব্দুল হাই দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি খাজা আবুল হাসনাতের ভাইরা।

এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন আমি এই থানাতে নতুন এসেছি তিন মাস হলো। আমি বিষয়টা জানতাম না যেহেতু আপনার কাছে জানতে পারছি আমি তদন্ত করে অবশ্যই আইনানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।